হযরত আলী (রা.) এর কয়েকটি অমূল্য বাণী। যা সব সময় আমাদের কর্মের সাথে মিল থাকছে

হযরত আলী (রা.) এর কয়েকটি অমূল্য বাণী। যা সব সময়
আমাদের কর্মের সাথে মিল থাকছে


আসসালামু আলাইকুম।
অনেক দিন পরে ইসলামিক পোস্ট নিয়ে হজির হইলাম।
সব গুলো বাণী একত্রিত করতে প্রায় তিন লাগলো।
ইসলমিক পোস্ট গুলোতো আর অন্যান্য পোস্টের মতো
বানানো যাবেনা নিজেও কিছু বলা যাবেনা,
আবার কোন পোস্ট রেফারেন্স ছারাও দেওয়া যায়না,
তাই এমন পোস্ট খুব কমেই পোস্ট করা হয়।
চলুন তাহলে উপদেশ গুলো দেখি,
১. হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে,
প্রেম-ভালোবাসার জন্য; আর বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে
ব্যবহারের জন্য। সমস্যার জন্ম নেয়, যখন বস্তুকে
ভালোবাসা হয় এবং মানুষকে ব্যবহার করা হয়।
২. মানুষ উত্তম নিয়তের কারণে সওয়াব/পুরস্কারপ্রাপ্ত
হয়, যা অনেকক্ষেত্রে ভালো আমলের পরও পাওয়া যায়
না। কেননা নিয়তের ক্ষেত্রে লোক-দেখানো বা
লৌকিকতার সুযোগ নেই।
৩. ধনসম্পদ মাটিতুল্য; আর মাটি সংরক্ষণের যথাযোগ্য
স্থান হচ্ছে পদতলে। তা যদি মাথার ওপর রাখা হয়, সেটা
কবরের নামান্তর হয়। আর কবর তো জীবিত মানুষের জন্য
নয়।
৪. সময় ও সম্পদ এমন দুইটি জিনিস, যা মানুষের ইচ্ছাধীন
নয়। সময় মানুষকে বাধ্য করে, আর সম্পদ অহংকারী করে
তোলে।
৫. নেককারদের সাহচর্য দ্বারা মানুষ শুধু মঙ্গলই পেয়ে
থাকে। কেননা বাতাস যখন ফুলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত
হয়, তাতে নিজেই সুগন্ধিযুক্ত হয়ে যায়।
৬. মূর্খলোক সম্পদের জন্য অন্তরের শান্তি বিসর্জন দেয়;
আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি মনের শান্তির জন্য সম্পদ লুটিয়ে
দেয়।
৭. কখনও কারও সামনে নিজের সততা-ভালো হওয়ার কথা
বলতে যাবে না। কেননা তোমার প্রতি যার বিশ্বাস
আছে, তার কাছে তেমনটির প্রয়োজনই নেই; আর তোমার
প্রতি যার ভক্তি-বিশ্বাস নেই, সে তা মেনে নেবে না।
৮. জীবজন্তুর মাঝে থাকে প্রবৃত্তি-কামনা এবং
ফেরেশতাদের মধ্যে থাকে বুদ্ধি-বিবেক; কিন্তু মানুষের
মধ্যে থাকে উভয়টি। মানুষ যদি বিবেক-বুদ্ধিকে চেপে
যায়, পশু হয়ে যায় আর যদি প্রবৃত্তি-কামনা-বাসনাকে
চেপে যায়, ফেরেশতাসম হয়ে যায়।
৯. সৎমানুষের এটাও অন্যতম গুণ যে, তাদের ইচ্ছা করে
মনে রাখতে হয় না; তাদের কথা এমনিতেই মনে পড়ে।
১০. ‘শব্দ-কথা’ মানুষের ইচ্ছাধীন দাস হয়ে থাকে; তবে তা
বলার আগ পর্যন্ত। বলে ফেললে, মানুষ তার দাসে পরিণত
হয়।
১১. ভালোবাসা সবাইকে নিবেদন করো; তবে তাকে
সর্বাধিক ভালোবাস, যার অন্তরে তোমার জন্য তোমার
চেয়েও অধিক ভালোবাসা বিদ্যমান।
১২. যে কাউকে একাকী উপদেশ দেয়, সে তাকে সজ্জিত
করে; আর যে কাউকে সবার সামনে উপদেশ দেয়, সে
তাকে আরও বিগড়িয়ে ফেলে।
১৩. জীবনযাপনকে প্রয়োজনের মধ্যে সীমীত রাখো; শখ-
বাসনার দিকে নিয়ে যাবে না। চাহিদা একজন
ফকিরেরও পূর্ণ হয়ে যায়। আর শখ-বাসনা একজন রাজা-
বাদশাহরও পূর্ণ হয় না।
১৪. কথা বল পার্থক্য-জ্ঞানসহ, প্রশ্ন-প্রতিবাদ কর
প্রমাণসহ। কেননা মুখ তো পশু-প্রাণীরও থাকে; কিন্তু
তারা জ্ঞান-বুদ্ধি-ভদ্রতা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।
১৫. কোনো মানুষের ভালো বা গুণের কিছু জানলে, তা
বল, প্রকাশ কর। কিন্তু কোনো ত্রুটি পেলে সেক্ষেত্রে
তোমার নিজের গুণের পরীক্ষা বলে মনে করবে।
১৬.সেসব মানুষের ওপর আস্থা-ভরসা রাখবে, যারা
তোমার তিনটি বিষয় মূল্যায়ন করে।
ক. তোমার হাসি-আনন্দের ক্ষেত্রে অব্যক্ত দয়া পোষণ
করে,
খ. তোমার ক্রোধের ক্ষেত্রে অব্যক্ত ভালোবাসা পোষণ
করে,
গ. তোমার মৌনতার ক্ষেত্রে গোপনমুখ হিসেবে কাজ
করে।