Saturday, September 22, 2018

সহি ও শুদ্ধ ভাবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ম কারণ পুরুষদের জন্য

সহি ও শুদ্ধ ভাবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ম কারণ পুরুষদের জন্য

দৈনন্দি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ ।

(১) ফজরের দুই রকাত।

(২) জোহরের চার রাকাত। আর জুমার দিন জোহরের পরিবর্তে জুমার দুই রাত।

(৩) আছরের চার রাকাত।

(৪) মাগরিবের তিন রাকাত।

(৫) এশার চার রাকাত ।

ফরয নামাজের নিয়ম :

পবিত্রতা অর্জন করে নামাজের নিয়্যত করবে। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন মনে মনে এতটুকু থাকাই নিয়্যতের জন্য যথেষ্ট। তবে তার সাথে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। তারপর ক্বিবলামুখি হয়ে দাড়াবে, দুই পায়ের গুড়ালি বরাবর থাকবে এবং দুই পায়ের মাঝে চার আংগুল পরিমাণ ফাকা থাকবে।

তারপর তাকবীরে তাহ্রীমা অর্থাৎ الله اڪبر (আল্লাহু আকবার) বলে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবে।, এ ক্ষেত্রে হাতের আংগুলগুলো সাভাবিক অবস্থায় ক্বিবলা মুখি থাকবে আর উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উভয় কানের লতি বরাবর থাকবে।

তারপর হাত নামিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বরা হালকা বানিয়ে বাম হাতের কবজি ধরবে আর বাকী আঙ্গুলগুলো বাম হাতের উপর রাখবে।

অতঃপর নাভির নিচে বাধবে। দাড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি থাকবে সেজদার জায়গায় । তারপর ছানা পড়বে

سبحانڪ اللهم وبحمدڪ وتبارڪ السمڪ وتعالى جدڪ ولا اله غي

উচ্চারণঃ সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা অতাবারকাসমুকা অতাআলা জাদ্দুকা অলাইলাহা গইরুকা

তারপর اعوذ بالله من الشيطن الرجيم

(উচ্চারণঃ আয়ুজু বিল্লাহি মিনাশ্শাই ত্বর্নিরজীম।) পড়বে এবং بسم الله الرحمن الرحيم (উচ্চারণঃ বিসমিল্লার্হিরহমার্নিরহীম। অর্থঃ পরম করুনাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) পড়বে।

তারপর সূরা ফাতেহা: الحمد لله رب العلمين الرحمن الرحيم مالڪ يوم الدين اياڪ نعبد و اياڪ نستعين اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين انعمت عليهم غيرالمغصوب غليهم و لا الضلين পড়বে।

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আররহমানির রহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন, ইয়্যাকানা’বুদু অইয়্যাকানাসতাইন। ইহদিনাছছিরতল মুসতাকীম। ছিরতল্লাযিনা আনআ’মতা আলাইহিম গইরিল মাগধুবি আলাইহিম। অলাদ্দল্লিন।
তারপর কোআনে কারীম থেকে যে কোন একটি সূরা মিলাবে। যেমন ফীল।

الم تر ڪيف فعل ربڪ باصحب الفيل الم يجعل ڪيد هم في تضليل و ارسل عليهم طيرا ابابيل ترميهم بحجارة من سجيل فجعلهم ڪعصف مآ ڪول

উচ্চারণঃ আলামতার কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বিআছহাবিল ফীল । আলাম ইয়াজ আল কাইদাহুম ফী তাদলীল। অআরসালা আলাইহিম তাইরান আবাবিীল। তারমীহিম বিহিজারতিম মিনসিজ্জীল। ফাজাআলাহুম কাআসফিম মাকূল।
তারপর তাকবীর বলে রুকুতে যাবে, হাতের আংগুলগুলো ফাকা রেখে দুই হাত দ্বারা উভয় হাটুকে ভালভাবে আকড়ে ধরবে। এবং মাথা, পিঠ ও মাজা সমান থাকবে কোন উঁচু নিচু থাকবে না। রুকুতে থাকা অবস্থায় দৃষ্টি থাকবে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির দিকে। তারপর রুকুর তাসবীহ পড়বে।

سبحان ربي العظيم

উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম। অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক পবিত্র। তিন বার পড়বে। তবে পাঁচ বার , সাত বারও পড়তে পারবে।

তারপর سمع الله لمن حمده (উচ্চারণঃ সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদাহ । অর্থঃ যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন।) বলে রুকু থেকে সুজা হয়ে দাড়াবে। তারপর الله اڪبر বলে সেজদায় যাবে । সেজদায় যাওয়ার সময় দুই হাতে হাটু ধরে সর্বপ্রথম উভয় হাটু একত্রে জমীনে রাখবে।

তারপর হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো অবস্থায় দুই হাত জমীনে একত্রে রাখবে। এবং চেহারার চওড়া অনুযায়ী দুই হাতের মাঝে ফাঁকা রাখবে।তারপর দুই হাতের মাঝে সেজদা করবে প্রথমে নাক তারপর কপাল রাখবে উভয় হাতের শধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের বরাবরে নাক রাখবে । নজর নাকের উপর রাখবে ।

পুরুষের পেট রান থেকে বাহু পাজর থেকে হাতের কনুই জমীন থেকে পৃথক রাখবে। পায়ের আঙ্গুল সমূহকে কিবলামুখী করে রাখবে এবং দুই পায়ে গুড়ালি মিলিয়ে না রেখে বরং টাকনু কাছা কাছি রাখবে। যথা সম্ভব পায়ের আঙ্গুলগুলো জমীনের সাথে চেপে ধরে আঙ্গুলের অগ্রভাগ ক্বিবলার দিকে রাখবে।

সেজদার মধ্যে তিন বার سبحان ربي الاعلى পড়বে। তবে পাঁচ বার , সাত বারও পড়তে পারবে।

(উচ্চারণঃ সুবহানা রব্বিয়াল আয়লা । অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক মহা পবিত্র।) তিনবার সাতবারও পড়তে পারবে।

তারপর الله اڪبر বলে সেজদা থেকে উঠে বসবে। প্রথম কপাল তারপর নাক তারপর হাত উঠাবে। তারপর বাম পা জমীনে বিছিয়ে তার উপর বসবে। আর ডান পা দার করিয়ে রাখবে । পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে জমীনে রাখবে।

দুই হাত উভয় রানের উপর রাখবে। হাতের আঙ্গুলগুলো সামান্য ফাঁকা রেখে আঙ্গুলের মাথার অগ্রভাগ হাটুর কিনারা বরাবর রাখবে। তারপর اللهم اغفرلى ارحمني وارزقني واهدنى পড়বে। তারপর الله اڪبر বলে দ্বিতীয় সেজদা করবে।

দ্বিতীয় সেজদা শেষ করে আবার الله اڪبر বলে সেজদা থেকে সুজা দাড়িয়ে যাবে। তারপর দ্বিতীয় রাকাতেও ঠিক প্রথম রাকাতের মতই । প্রথম সূরা ফাতেমা পড়বে । তারপর بسم الله الرحمن الرحيم পড়ে যে কোন একটি সূরা মিলাবে।
তারপর প্রথম রাকাতের মতই রুকু সেজদা করবে। দুটি সেজদা শেষ করে দুই সেজদার মাঝে বসার ন্যায় বসবে এবং দুই হাত রানের উপর হাটু বরারব রাখবে । আর দৃষ্টি থাকবে কোলের দিকে। তারপর তাশাহ্হুদ পড়বে।

التحيات لله و الصلوات والطيبات السلام عليڪ ايها النبي ورحمة الله وبرڪاته السلام علينا وعلي عباد الله الصلحين اشهد الا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله

উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি অছ্ছলাওয়াতু অত্তয়্যিাবাতু আস্সালা মু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু অরহমাতুল্লাহি অবারকাতুহু আস্সালামু আলানা অআলা ইবাদিল্লাহিছ্ছলিহীন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরসূলুহু।
তাশাহ্হুদ পড়ার সময় ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা অঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানাবে এবং اشهد الا اله বলার সময় শাহাদাত অঙ্গুলি উঠাবে الا الله বলার সময় নামিয়ে ফেলবে। বাকী দুটি আঙ্গুল তালুর সাথে মিলিয়ে রাখবে।
নামাজ যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়, তাহলে তাশাহ্হুদের পরে দরুদে ইব্রাহীম পড়বে।

اللهم صل علي محمد و علي ال محمد ڪما صليت علي ابراهيم و علي ال ابراهيم انڪ حميد مجيج اللهم بارڪ محمد و علي ال محمد ڪما بارڪت علي ابراهيم ر علي ال ابراهيم انڪ حميد مجيد

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ অ আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা অ আলা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ অ আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারকতা আলা ইব্রাহীমা অ আলা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।

তারপর দোয়ায়ে মাছুরা পড়বে।

اللهم اني ظلمت نفسي ظلما ڪثيرا و لا يغفر الذنوب الا انت فاغفرلي مغفرة من عندڪ انڪ انت الغفور الرحيم

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফছি জুলমান কাসিরান অলা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরতাম মিন ইন্দিকা ইন্নাকা আন্তাল গফুরুররহীম।

তারপর السلام عليڪم ورحمة الله ( আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ) বলে সালাম ফিরাবে । প্রথমে ডান পাশে তারপর বাম পাশে। সালাম ফিরানোর সময় দৃষ্টি থাকবে কাঁধের দিকে ডান পাশে সালাম ফিরানোর সময় ডন কাঁধের দিকে আর বাম পাশে ফিরানোর বাম কাঁধের দিকে।

ডান পাশে সালাম ফিরানোর সময় সালামের দ্বারা নিয়্যত থাকবে ডান পাশের ফেরেশতাদের আর বাম পাশে সালাম ফিরানোর সময় নিয়্যত থাকবে বামপাশের ফেরেশতাদের ।

আর যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হয়, তাহলে দুই রাকাতের পর যে বৈঠক হবে তাহবে প্রথম বৈঠক। এই প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাড়িয়ে যাবে আর তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়বে কিন্তু কোন সূরা মিলাবে না।

তৃতীয় রাকাত শেষ করে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা পরে সালাম ফিরাবে।

নামাজ যদি চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, তাহলে প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়বে তারপর আরো দুই রাকাত পড়বে।আর এই দুই রাকাতে শুধু সূরা ফাতেহা পড়বে, কোন সূরা মিলাবে না। চতুর্থ রাকাতের পরে শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা পড়ে সালাম ফিরাবে।

নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া
মহিলাদের নামাজের সঠিক নিয়ম
নামাজে সূরা মিলানোর নিয়ম
সঠিকভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম
চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ম
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এর নিয়ম
জামাতে নামাজ পড়ার নিয়ম
ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম

Monday, January 22, 2018

জেনে নিন সঠিকভাবে কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম!

জেনে নিন সঠিকভাবে
কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম!

আজ পবিত্র জুমার দিন। তো চলুন আজকের এই জুমার দিনে
আমরা একটি ইসলামিক নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে
অবগত হই। সেটা হলো নামাজের কাজা বিষয় নিয়ে।
আশা করি অনেকেই জানেন। যেহেতু আমরা মুসলিম তা
আমাদের জানা থাকতেই হবে। তারপরও আমরা অনেকেই
আছি কাজা নামাজের বিষয়ে সঠিক নিয়ম জানিনা। যে
কোনো জরুরি কারণে সময়মত নামাজ পড়তে না পারলে ঐ
নামাজ অন্য নামাজের পূর্বে আদায় করাকে কাজা
নামাজ বলে। কাজা নামাজ কম-বেশি হলে সেক্ষেত্রে
আদায়ের সুবিধার্থে এ নামাজকে দুই ভাগে ভাগ করা
হয়েছে। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো।
.
(১) ফাওয়ায়েতে কালিল : কাজা নামাজ পাঁচ ওয়াক্তের
কম হলে তাকে ফাওয়ায়েতে কালিল বা অল্প কাজা
বলে।
(২) ফাওয়ায়েতে কাছির : বেশি কাজা। পাঁচ ওয়াক্তের
অধিক নামাজ কাজা হলে, তা যতদিনের নামাজই হোক
না কেন তাকে ফাওয়ায়েতে কাছির’ বা অধিক কাজা
বলা হয়।
.
উভয় কাজা আদায়ের নিয়ম : ফাওয়ায়েতে কাজা বা
অল্প কাজা নামাজ ওয়াক্তিয়া নামাজের
ধারাবাহিকতায় এক সঙ্গে আদায় করা। আর
ফাওয়ায়েতে কাছির বা বেশি কাজা নামাজ সকল
ওয়াক্তিয়া নামাজের পূর্বে পড়া। তবে লক্ষ্য রাখতে
হবে…
* কাজা নামাজের র কথা ভুলে গেলে,
* নির্ধারিত ওয়াক্তের নামাজের সময় সংকীর্ণ হলে
অথবা
* কাজা পাঁচ ওয়াক্তের বেশি হলে কাজা নামাজ পরেও
পড়া যাবে।
.
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা তার কম নামাজ না পড়ে থাকলে
তা ধারাবাহিকতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। আগের
নামাজ আগে, পরের নামাজ পরে পড়তে হবে।
.
যেমন- কোনো ব্যক্তির ফজর এবং জোহরের নামাজ তরক
হলে, আছরের নামাজ আদায়ের পূর্বে প্রথম ফজরের
নামাজ কাজা আদায় করবে, অতপর জোহরের নামাজ
কাজা আদায় করবে। তারপর আছরের ওয়াক্তিযা নামাজ
আদায় করিবে।
.
মনের রাখতে হবে…..
* ফরজ নামাজের কাজা আদায় ফরজ,
* ওয়াজিব নামাজের কাজা আদায় করা ওয়াজিব,
* আর সুন্নাত নামাজের কাজা পড়তে হয় না। কিন্তু
ফজরের সুন্নাত নামাজের কাজা আদায় করতে হবে। সময়
হলো জোহরের পূর্ব পর্যন্ত। যদি জোহরের ওয়াক্ত হয়ে
যায় তবে তা আর পড়তে হবে না।
.
কাজা নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করলে ইমাম
ক্বিরাআত জোরে পড়বে। তবে জোহর এবং আছরের
ক্বিরাআত চুপে চুপে পড়বে।
.
এক মাস বা তার চেয়েও বেশি দিনের নামাজ কাজা
হয়ে থাকলে এ নামাজের কাজা নির্ধারিত পরিমাণ
সময়ে প্রতি ওয়াক্তে ধারাবাহিকতার সঙ্গে আদায়
করতে হবে।
.
জীবনে যে নামাজ পড়ে নাই বা কত ওয়াক্ত নামাজ তরক
হয়েছে তাহার হিসাবও নাই। সে ব্যক্তি যদি এখন সব
নামাজের কাজা আদায় করতে চায়, তবে সে ব্যক্তি
প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে সঙ্গে
ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের কাজা
আদায় করতে থাকবে। এভাবে নামাজ আদায়কে ‘ওমরি
কাজা’ বলে। এ নামাজ আদায়ে অনেক সাওয়াব রয়েছে।’
.
শেষ কথায় বলতে চাই, এই পর্যন্ত যাদের যত নামাজ তরক
হয়েছে। তাদের জন্য কাজা আদায় করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়মে কাজা
নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Friday, January 19, 2018

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ত ও মোনাজাত

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ত ও মোনাজাত


নামাজ ইসলাম র্ধমরে প্রধান ইবাদত। প্রতদিনি ৫ ওয়াক্ত (নর্দিষ্টি নামাযরে নর্দিষ্টি সময়) নামাজ পড়া প্রত্যকে মুসলমানরে জন্য আবশ্যক বা ফরয্। নামায ইসলামরে পঞ্চস্তম্ভরে একট।ি শাহাদাহ্ বা বশ্বিাসরে পর নামাযই ইসলামরে সবচয়েে গুরুত্বর্পূণ স্তম্ভ। তাই সকলরে জন্য সঠকি ভাবে নামাজ আদায় করা আবশ্যক। জনেে ননি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজরে নয়িত ও বাংলায় মোনাজাত।

ফজররে নামাজ

ফজররে ২ রাকাত সুন্নত নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতলি ফাজর,ি সুন্নাতু রাসুলল্লিা-হি তাআলা মুতাও য়াজজহিান্ ইলা জহিাতলি কা’বাতশি শারীফাতি আল্লাহু আক্বার।)

ফজররে ২ রাকাত ফরজ নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতলি ফাজর,ি ফারজুল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কা’বাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

বশিয়ে দ্রষ্টব্যঃ ইমামতি করতি-েআনা ইমামুল্লমিান হাজারা ও মাইয়্যাফজুরু সহ মুতাওয়াজ্জহিান বলতে হবে আর ইমামরে পছিনে নামাজ পড়তিে হলে বলতে হব(েএক্তাদাইতু বহিা-যাল ইমামি মুতা ওয়াজ্জহিানৃ)

জোহররে নামাজ

জোহররে নাময মোট ১২ রাকাত। র্সূয মাথার উপর হইতে পশ্চম্ িদকিে একটু হলেয়িা পড়লিইে জোহররে নামাযরে ওয়াক্ত আরম্ভ হয় এবং কোন কছিুর ছায়া দ্বগিুণ হইলে জোহররে ওয়াক্ত শষে হইয়া যায়।

জোহররে ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-তাআলা আরবাআ রাকয়াতি সালাতজি জোহরি সুন্নাতু রাসুলল্লিা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার। )

জোহররে ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা আরবাআ রাকয়াতি সালাতজি জোহরি ফারজুল্লাহি তাআলঅ মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

জোহররে ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা রাকায়াতাই সালাতজি জোহরি সুন্নাতি রাসূলল্লিা-হি তাআলা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

জোহররে ২ রাকায়াত নফল নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতলি নাফলি মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

আছররে নামাজ

আছররে নামায মোট ৮ রাকাত। কোন লাকড়রি ছায়া দ্বগিুণ হওয়ার পর হইতে র্সূযাস্তরে ১৫/২০ মনিটি র্পূবে র্পযন্ত আছররে নামাযরে সময় থাক।ে

আছররে চার রাকায়াত সুন্নাত নামাযরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইত ুআন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা আরবাআ রাকায়াতি সালাতলি আছরি সুন্নাতু রাসূলল্লিা-হি তাআলা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

আছররে চার রাকায়াত ফরজ নামাযরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইত ুআন্উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা আরবাআ রাকায়াতি সালাতলি আছরি ফারজুল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

মাগরবিরে নামাজ

মাগরবিরে নামায মোট ০৭ রাকায়াত। র্সূযাস্তরে পর হইতে মাগরবিরে নামাযরে সময় হয় মাগরবিরে ওয়াক্ত অতি অল্পকাল স্থায়ী।

মাগরবিরে ৩ রাকায়াত ফরজ নামাযরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা ছালাছা রাকয়াতি সালাতলি মাগরবি ফারজুল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

মাগরবিরে ২ রাকায়াত সুন্নাত ফরজ নামাযরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতলি মাগরবিি সুন্নাতু রাসূলল্লিা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

উক্ত দুই রাকায়াত সুন্নত নামায শষে হইলে দুই রাকয়াত নফল নামাজ পরবিনে।

এশার নামাজ

এশার ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা আরবাআ রাকয়াতি এশায়ি সুন্নাতু রাসূলল্লিা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

এশার চার রাকায়াত ফরজ নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইত ুআন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা আরবাআ রাকয়াতি এশায়ি ফারজুল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

এশার দুই রাকায়াত সুন্নাত নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা রাকায়াতি সালাতলি এশায়ি সুন্নাতু রাসুূলল্লিা-হি তাআলা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

তনি রাকায়াত বতেরে নামাজরে নয়িত

বাংলায় : (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লয়িা লল্লিা-হি তাআলা ছালাছা রাকায়াতি সালাতলি বতিরি ওয়াজবিুল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজজহিান ইলা জহিাতলি কাবাতশি শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজরে তাসবহি

১। ফজররে নামাজরে তাসবহি

বাংলায় : (হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।)-তনিি চরি জীবতি ও চরিস্থায়ী।

২। জোহররে নামাজরে তাসবহি

বাংলায় : (হুয়াল আলইিয়্যাল আজীম)-তনিি শ্রষ্ট্রেতর অতি মহান।

৩। আছররে নামাজরে তাসবহি

বাংলায় : (হুয়ার রাহমা- নুর রাহীম)-তনিি কৃপাময় ও করুনা নধিান।

৪। মাগরবিরে নামায পড়ে পরবিার তাসবহি

বাংলায় : (হুয়াল গাফুরুর রাহীম)- তনিি র্মাজনাকারী ও করুণাময়।

৫। এশার নামায পড়ে পরবিার তাসবহি

বাংলায় : (হুয়াল্ লাতফিুল খাবীর)- তনিি পাক ও অতশিয় সর্তকশীল।

সালাম

বাংলায় : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা হ। )

মোনাজাত

বাংলায় : (রাব্বানা আ-তনিা ফদ্দিুনইয়া হাসানাওঁ ওয়াফলি আখরিাতি হাছানাতাওঁ ওয়াকনিা আজাবান্নার। ওয়া সাল্লাল্লাহু- তাআলা আলা খাইরি খালক্বহিী মুহাম্মাদওিঁ ওয়া আ-লহিি ওয়াআছহাবহিী আজমায়ীন। বরিাহমাতকিা ইয়া আরহিামার রাহমিীন।)

Wednesday, January 3, 2018

ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে দেখলেন ইকামত দিচ্ছে এমন অবস্থাই আপনি কি করবেন? সুন্নত পড়ে নিবেন? না জামাতে সামিল হবেন?

ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে দেখলেন ইকামত দিচ্ছে এমন অবস্থাই আপনি কি করবেন? সুন্নত পড়ে নিবেন? না জামাতে সামিল হবেন?

 سم الله الرحمن الرحيم

প্রথমেই একটি হাদীসের দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে নেই। হাদীসটি হল- عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যখন নামায শুরু হয়, তখন ফরজ নামায ছাড়া আর কোন নামায পড়া জায়েজ নয়। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪২১}

এবার ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে বর্ণিত কয়েকটি হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেই। যেমন- عن عائشة رضي الله عنها قالت: لم يكن النبي صلى الله عليه و سلم على شيء من النوافل أشد منه تعاهدا على ركعتي الفجر হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এর মত কোন নফল নামাযকে এত হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১১১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৪৬৩}

عن عائشة عن النبى -صلى الله عليه وسلم- قال « ركعتا الفجر خير من الدنيا وما فيها হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তা থেকে ফজরের দুই রাকাত উত্তম। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭২১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৫০, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১১০৭}

عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : لا تتركوا ركعتي الفجر ولو طردتكم الخيل হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করলেও তোমরা ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] ছেড়ো না। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৪৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১২৬০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪২৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২৫৩}

ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত নামায সুন্নত। এ দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের ক্ষেত্রে রাসুল সাঃ কী পরিমাণ গুরুত্বারোপ করেছেন তা আমরা উপরোক্ত কয়েকটি হাদীস থেকে স্পষ্টই বুঝতে পারছি। এরকম তাকীদ আর কোন সুন্নত নামাযের ক্ষেত্রে রাসূল সাঃ করেননি। যা বুখারীতে বর্ণিত হযরত আয়শা রাঃ এর হাদীস দ্বারা স্পষ্ট। আর আমরা একথাও ভাল করেই জানি যে, প্রতিটি বস্তু তার ঠিক সময়ে আদায় করাই উক্ত ইবাদতের দাবি। ফজরের দুই রাকাত আদায়ের সময় হল ফজরের ফরজ পড়ার আগে। তাই সে হিসেবে উপরে বর্ণিত ফজরের সুন্নত পড়ার তাকিদ সম্বলিত হাদীস সুনিশ্চিতভাবেই ফজরের ফরজ পড়ার আগে পড়ার জন্যই বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল রাসূল সাঃ তো ফরজ নামায দাঁড়িয়ে গেলে কোন নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তাহলে ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় জামাত দাঁড়িয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ ফজরের সুন্নত এর কি করবে? যেটি আসল আদায়ের সময় হল ফজরের ফরজ পড়ার আগে। এখনতো জামাতই দাঁড়িয়ে গেল। এখন করণীয় কি? এ ব্যাপারে রাসূল সাঃ থেকে সরাসরি কোন কিছুই আমরা পাই না। গুরুত্বপূর্ণ ফজরের সুন্নত যথাসময়ে আদায় করে জামাতে শরীক হবে? না আগে জামাত পড়ে তারপর সুন্নাত পড়বে? এর কোন সমাধান রাসূল সাঃ থেকে প্রমানিত নয়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি? এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হল রাসুল সাঃ এর হাদীস শুনেছেন সাহাবাগণ। সাহাবাদের মাধ্যমে আমরা হাদীস পেয়েছি। সাহাবাগণ রাসূল সাঃ থেকে সরাসরি কথা শুনেছেন। স্বচক্ষে রাসূল সাঃ এর আমল দেখেছেন। তাই এক্ষেত্রে আমাদের কাছে সাহাবাগণ কর্তৃক সমাধান ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। আমরা দেখতে পাই সাহাবাগণের মাঝে রাসূল সাঃ এর কাছের ও ফক্বীহ সাহাবাগণের অন্যতম হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ, হযরত আবু দারদা রাঃ, রাসূল সাঃ এর একনিষ্ট ভক্ত ও প্রতিটি কাজের একনিষ্ট অনুসারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ সহ অনেক সাহাবী ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় নামায দাঁড়িয়ে গেলেও আগে সুন্নত পড়ে, তারপর ফরজে শরীক হতেন। যেহেতু আমরা রাসূল সাঃ এর নামায সচক্ষে দেখিনি। তাই রাসূল সাঃ এর হাদীস আমরা যাদের মাধ্যমে পেলাম তাদের আমল এর কারণে বলে থাকি যে, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত জামাত শুরু হলেও পড়ে নিতে হবে যদি নামায পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সুন্নত বাদ দিয়ে ফরজ পড়ে নিবে। এ আমল আমাদের বের করা নয়। সাহাবাগন কর্তৃক আমল করা আমল। তাই আমরা নিজেদের বুঝ ও সমঝের উপর নির্ভর না করে সাহাবাগণের বুঝ ও সমঝের উপর নির্ভর করেছি। নিম্নে প্রসিদ্ধ সাহাবাগণের আমল উদ্ধৃত করা হল। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর আমল عبد الله بن أبى موسى عن أبيه : حين دعاهم سعيد بن العاص دعا أبا موسى وحذيفة وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم قبل أن يصلى الغداة ثم خرجوا من عنده وقد أقيمت الصلاة فجلس عبد الله الى أسطوانة من المسجد فصلى الركعتين ثم دخل في الصلاة فهذا عبد الله قد فعل هذا ومعه حذيفة وأبو موسى لا ينكران ذلك عليه فدل ذلك على موافقتهما إياه (شرح معانى الأثار، كتاب الصلاة، باب الرجل يدخل المسجد والإمام في صلاة الفجر ولم يكن ركع أيركع أو لا يركع، رقم الحديث- 2037 আব্দুল্লাহ বিন মুসা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা সাঈদ বিন মুসা হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ, হযরত হুযায়ফা রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ কে ডাকলেন ফজরের নামাযের আগে। তারপর তারা বের হলেন তার [সাঈদ বিন মুসা রাঃ] নিকট থেকে এমতাবস্থায় যে, [ফজরের] নামায দাঁড়িয়ে গেছে। তখন আব্দুল্লাহ মসজিদের এক স্তম্ভের কাছে বসে গেলেন। তারপর দুই রাকাত [ফজরের সুন্নাত] নামায পড়লেন। তারপর নামাযে [ফরজের জামাতে] শরীক হলেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ একাজটি করলেন। সাথে ছিলেন হুযায়ফা ও আবু মুসা রাঃ। কিন্তু তাদের কেউ এটা বারন করেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ বহন করে যে, তারাও এতে রাজি ছিলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৭} عن أبى إسحاق عن عبد الله بن أبى موسى عن عبد الله : انه دخل المسجد والإمام في الصلاة فصلى ركعتي الفجر (رقم الحديث-2038) আব্দুল্লাহ বিন আবী মুসা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব ছিলেন নামাযে, তখন তিনি [আগে] ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৮} হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ এর আমল عن أبى مجلز قال : دخلت المسجد في صلاة الغداة مع بن عمر وابن عباس رضي الله عنهم والإمام يصلى فأما بن عمر رضي الله عنهما فدخل في الصف وأما بن عباس رضي الله عنهما فصلى ركعتين ثم دخل مع الإمام (رقم الحديث-3029 আবী মিজলাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ফজরের নামাযে একদা ইবনে ওমর রাঃ, ইবনে আব্বাস রাঃ এর সাথে মসজিদে প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব নামায পড়াচ্ছিল। তখন ইবনে ওমর রাঃ কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। আর ইবনে আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। তারপর ইমামের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-৩০২৯}

عن أبى عثمان الأنصاري قال : جاء عبد الله بن عباس والإمام في صلاة الغداة ولم يكن صلى الركعتين فصلى عبد الله بن عباس رضي الله عنهما الركعتين خلف الإمام ثم دخل معهم وقد روى عن بن عمر مثل ذلك আবু উসমান আলআনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এমতাবস্থায় এলেন যে, ইমাম সাহেব ফজরের নামায পড়াচ্ছিলেন। আর তিনি ফজরের [সুন্নত] দুই রাকাত পড়েননি। তাই আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন ইমামের পিছনে। তারপর তিনি ইমামের সাথে শরীক হলেন। ইবনে ওমর রাঃ এর ব্যাপারেও এমনি বর্ণিত। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৪০}

আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এর আমল نافعا يقول : أيقظت بن عمر رضي الله عنهما لصلاة الفجر وقد أقيمت الصلاة فقام فصلى الركعتين হযরত নাফে বলেনঃ আমি ইবনে ওমর রাঃ কে ফজরের নামাযের জন্য জাগালাম এমতাবস্থায় যে, ফজরের নামায জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-২০৪২}

হযরত আবু দারদা রাঃ এর আমল عن أبى الدرداء : أنه كان يدخل المسجد والناس صفوف في صلاة الفجر فيصلى ركعتين في ناحية المسجد ثم يدخل مع القوم في الصلاة আবু দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, লোকেরা ফজরের নামাযের কাতারে ছিল, [তথা নামায শুরু করে দিয়েছে] তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন মসজিদের কিনারায়,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৪৪}

হযরত ওমর রাঃ এর জমানায় সাহাবায়ে কেরামের আমল عن أبى عثمان النهدي قال : كنا نأتي عمر بن الخطاب رضي الله عنه قبل أن نصلى ركعتين قبل الصبح وهو في الصلاة فنصلى ركعتين في آخر المسجد ثم ندخل مع القوم في صلاتهم আবু উসমান আননাহদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এর কাছে এলাম ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত পড়ার আগে। তখন তিনি নামাযরত ছিলেন। তখন আমরা মসজিদের শেষ মাথায় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লাম। তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলাম। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-২০৪৬}

তাবেয়ী মাসরূক রহঃ এর আমল الشعبي يقول : كان مسروق يجىء الى القوم وهم في الصلاة ولم يكن ركع ركعتي الفجر فيصلى ركعتين في المسجد ثم يدخل مع القوم في صلاتهم শাবী থেকে বর্ণিত। মাসরূক লোকদের কাছে এমন সময় এলেন যখন তারা নামায পড়ছিল। তিনি সে সময় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়েন নি। তাই তিনি মসজিদে দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {তাহাবী শরীফ,হাদীস নং-২০৪৮}

তাবেয়ী হাসান বসরী রহঃ এর আমল يزيد بن إبراهيم عن الحسن : أنه كان يقول إذا دخلت المسجد ولم تصل ركعتي الفجر فصلهما وان كان الإمام يصلى ثم ادخل مع الإمام ইয়াযিদ বিন ইবরাহীম হাসান [বসরী রহঃ} থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, তুমি যদি এমতাবস্থায় মসজিদে প্রবেশ কর যে, তুমি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়নি, তাহলে তা পড় যদিও ইমাম নামায পড়াচ্ছে। তারপর ইমামের সাথে শরীক হও। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৫০}

Monday, December 4, 2017

ফজরের নামাজ এর নিয়ম কানুন জেনে নিন

ফজরের নামাজ এর নিয়ম কানুন জেনে নিন


ফজরের নামাজ মোট ৪ রাকাত ।এর মধ্যে  ২ রাকাত সুন্নত এবং ২ রাকাত ফরজ।


ফজরের  ২ রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত : (نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ فَرْضُ   للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ-)বাংলায় –(নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল ফাজরি, সুন্নাতু রাসুলিল্লা-হি তাআলা মুতাও য়াজজিহান্ ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আক্বার।) অনুবাদঃ কোবালা মুখী হইয়া ফযরের দুই রাকায়াত ফরয নামায আল্লাহর জন্য পড়িবার নিয়ত করিলাম আল্লাহু আকবার।

ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত  🙁نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ فَرْضُ   للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ) –বাংলায় (নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল ফাজরি, ফারজুল্লা-হি তায়ালা মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)অনুবাদঃ কোবালা মুখী হইয়া ফযরের দুই রাকায়াত ফরয নামায আল্লাহর জন্য পড়িবার নিয়ত করিলাম আল্লাহু আকবার

বিশেয় দ্রষ্টব্যঃ ইমামতি করিতে-আনা ইমামুল্লিমান হাজারা ও মাইয়্যাফজুরু সহ মুতাওয়াজ্জিহান বলতে হবে আর ইমামের পিছনে নামাজ পড়িতে হলে বলতে হবে(এক্তাদাইতু বিহা-যাল ইমামি মুতা ওয়াজ্জিহান…)।

Monday, October 2, 2017

জানাযা নামাজের নিয়ম

জানাযা নামাজের নিয়ম জানাযা একটি বিশেষ প্রার্থনা যা কোনো মৃত মুসলমানকে সৎকার করার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সচরাচর এটি জানাযার নামাজ নামে অভিহিত হয়। মুসলমান অর্থাৎ ইসলাম ধর্মামলম্বীদের জন্য এটি ফরযে কেফায়া বা আবশ্যকীয় দায়িত্ব।

তবে কোনো এলাকা বা গোত্রের পক্ষ থেকে একজন আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে অবশ্যই জানাযার নামাজ পাঠ করতে হবে।

জানাযার নামাজ একজন ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে বা দলবদ্ধভাবে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা বেজোড় সংখ্যক কাতারে বা সারিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এ নামায আদায় করেন। এটি ৪ তকবিরের নামাজ। দাঁড়িয়ে এ নামাজ আদায় করতে হয় এবং সালাম ফেরানোর মধ্য দিয়ে এ নামায শেষ হয়।

সাধারণত জানাযার নামাযের শেষে মুনাজাত বা দোয়া করতে হয় না কারণ এ নামাযের মাধ্যমেই মৃতের জন্য দোয়া করা হয়। জানাযা শেষে মৃতব্যক্তিকে গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাটিতে কবর দেওয়া হয়।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে সুন্নতি তরিকায় সুন্দরভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন আমীন।

সুরা-ফীল এর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ


আরবি সূরাঃ

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ

উচ্চারণঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আলাম তারা কাইফা আ'লা রাব্বুকা বি-আসহাবিল ফীল। আলাম ইয়াজ-আ'ল কাইদাহুম ফি তাদলীল। ওয়া-আরসালা আলাইহিম তাইরান আবাবীল। তারমিহিম বিহিজা রাতিম্মিন সিজ্জিল। ফাযাআ'লাহুম কাআ'সফিম মা'কূল।

অর্থঃ

আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী, যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।